ইয়াওমুল আহাদ (রবিবার), ১৩ জুন ২০২১

ছাত্রসংসদ নির্বাচনের বিধান নেই আইনে!

নিজস্ব প্রতিবেদক:ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্রসংসদের বিধান রাখা হয়নি। ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচন করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টির সব ছাত্রসংগঠনের নেতারা আইন সংশোধন করে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা শুরু হয়েছে ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিয়ে। ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় আইনে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের বিধান রাখা হয়নি। এখন এখানে ছাত্রসংসদ নির্বাচন করতে হলে আগে আইন সংশোধন ও ছাত্রসংসদের গঠনতন্ত্র তৈরি করতে হবে। ছাত্রসংসদ নির্বাচনের বিধান না রাখায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ছাত্রসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দ্রুত আইন সংশোধন করার দাবি জানানো হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বলছে, ছাত্রসংসদ নির্বাচন হওয়া উচিত। ডাকসু নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে আইনে সংশোধন এনে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের আইন নেই, এটি দুঃখজনক এবং অবিশ্বাস্য। ছাত্রসংসদ নির্বাচন তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ছাত্রসংসদ খুবই প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া, ভাবনাচিন্তার প্রতিফলন ঘটে ছাত্রসংসদের নেতাদের মাধ্যমে। শিক্ষকদের ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ায় অবহেলাসহ আরো কিছু কারণে তাদের সেশনজটে পড়তে হচ্ছে। কোনো কোনো বিভাগে ছয় মাসের সেমিস্টার ১২ মাসেও শেষ হচ্ছে না। অনার্স-মাস্টার্সে পাঁচ বছরের জায়গায় পাস করে বের হতে সময় লাগছে সাত থেকে আট বছর। এতে প্রতিবছর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে। আবাসিক সমস্যা, পরিবহন সংকট, লাইব্রেরিতে বই সংকটসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত ছাত্রসংসদ না থাকায়। তাদের এসব সমস্যা ও যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য ছাত্রসংসদ জরুরি। এ ছাড়া ছাত্রসংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে। যারা পরে জাতীয় রাজনীতিতে অবদান রাখতে পারে। এসব কারণে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ছাত্রসংসদ নির্বাচন বন্ধ থাকায় গ্রহণযোগ্য ও ছাত্রবান্ধব নেতৃত্বের ক্ষেত্রে শূন্যতা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের মৌলিক অধিকার, দাবিদাওয়াগুলো নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আদায় করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর অধিকার নিশ্চিত করতে ভোটের মাধ্যমে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের বিকল্প নেই। আমরা অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের নীতিমালা ও কার্যপরিধি প্রণয়ন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফজলুল হক রনি বলেন, ‘মূলত ছাত্রসংসদ ছাত্রদের অধিকার আদায়ে কাজ করে থাকে। বর্তমানে ছাত্রসংসদ না থাকায় ছাত্রদের সঠিক ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি, উদ্ভূত জটিলতার নিরসন করে ছাত্রসংসদ নির্বাচন দেওয়া হোক।’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আমিন বলেন, ‘ছাত্রসংসদের মূল উদ্দেশ্য হলো নেতৃত্বের বিকাশ। ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলা। সব বিশ্ববিদ্যালয়েই নিয়মিত ছাত্রসংসদ নির্বাচন হওয়া উচিত। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছাত্রসংসদ নেই। দ্রুত আইন সংশোধন করে ছাত্রসংসদ নির্বাচন দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রসংসদ নির্বাচন খুবই প্রয়োজন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছাত্রসংসদের বিধান রাখা হয়নি। তবে ডাকসু নির্বাচন শেষ হলে শিক্ষার্থীরা যদি চায়, তাহলে আইন সংশোধন করে এবং গঠনতন্ত্র তৈরি করে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। আইন সংশোধন করে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে পাস করে অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে।

Facebook Comments Box