ইয়াওমুস সাবত (শনিবার), ২৪ জুলাই ২০২১

চায়ের প্রায় ১২% আসছে উত্তরাঞ্চল থেকে

চায়ের প্রায় ১২% আসছে উত্তরাঞ্চল থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক: এক দশক আগেও দেশে চায়ের উৎপাদন আটকে ছিল প্রায় ছয় কোটি কেজিতে। এই উৎপাদন দিয়ে দেশের মানুষের চাহিদা মেটানো যাচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে ২০১০ সাল থেকে নিয়মিত চা আমদানি শুরু হয়। বছরে প্রায় এক কোটি কেজি চা আমদানি করতে হতো। সেই অবস্থা এখন অনেকটাই পাল্টেছে। দেশীয় উৎপাদন দিয়ে যেমন চাহিদা মেটানো হচ্ছে, তেমনি চা আমদানিও কমেছে। আবার পরিমাণে কম হলেও বাড়তে শুরু করেছে রপ্তানি।

চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে দেশে চায়ের উৎপাদন ছিল প্রায় ছয় কোটি কেজি। পরের বছরও উৎপাদন আটকে ছিল ছয় কোটিতে। কিন্তু চাহিদা বাড়তে থাকায় কোম্পানিগুলো চা আমদানি শুরু করে। ২০১০ সালে ৪৩ লাখ কেজি চা আমদানি হয়। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন না বাড়ায় ২০১৫ সালে আমদানি কোটি কেজি ছাড়িয়ে যায়। চা পানের চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নেন দেশের শিল্পোদ্যোক্তারা। কেউ বাগান লিজ নিয়ে, কেউবা বিপণনে যুক্ত হন। দেশের ১৮টি বড় শিল্প গ্রুপ যুক্ত হয় চা চাষে। আর বিপণনে যুক্ত হয় চারটি। তাদের সিংহভাগই গত এক যুগে যুক্ত হয়েছে এ খাতে।

আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে চা বোর্ডও নানামুখী পদক্ষেপ নেয়। চা চাষের আওতা বাড়াতে নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়। ক্ষুদ্র চাষি ও উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করতে নেওয়া নানা পদক্ষেপ কাজে লাগে। একই সঙ্গে নতুন নতুন জেলায় চা চাষ সম্প্রসারণেও মনোযোগী হয় চা বোর্ড। এর সুফলও পাওয়া যায়। ২০০৯ সালে যেখানে উৎপাদন ছিল ছয় কোটি কেজি, ২০১৯ সালে এসে উৎপাদন বেড়ে হয় ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি। আবার একসময় যেখানে চাহিদা মেটাতে কোটি কেজি চা আমদানি হতো, গত বছর তা নেমে এসেছে ছয় লাখ কেজিতে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে দেশে চা চাষের এলাকা ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪২ একর। সে সময় একরপ্রতি ফলন ছিল ৫০১ কেজি। আর ২০২০ সালে চা চাষের এলাকা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার একরে। অনুকূল আবহাওয়ায় ২০১৯ সালে ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের মাইলফলক ছুঁয়েছে।

২০০৮ সালেও উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় জেলায় চা চাষ হতো ২ হাজার ১৪৪ একর জমিতে। তখন জেলায় উৎপাদিত হয়েছিল মাত্র ৫ লাখ ৩৭ হাজার কেজি চা। এক যুগে সেটি আরও চার জেলায় (ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট) বিস্তৃত হয়েছে। উৎপাদনও এখন এক কোটি কেজি ছাড়িয়ে গেছে। গত বছর উত্তরাঞ্চলে ১ কোটি ৩ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। অর্থাৎ ১৯ গুণ বেড়েছে উৎপাদন। আর আবাদি এলাকা বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার ১৭০ একর। ক্ষুদ্রায়তন উদ্যোক্তা হয়েছেন ৭ হাজার ৩১০ জন। এখন দেশে মোট উৎপাদিত চায়ের প্রায় ১২ শতাংশ আসছে উত্তরাঞ্চল থেকে, এক যুগ আগে যা ছিল ১ শতাংশের কম।

Facebook Comments Box