ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ০৫ আগস্ট ২০২১

চাকরি না পেয়ে অবশেষে কৃষিতে সফল সোহাগ

সিলেট সংবাদদাতা: লেখাপড়া করে শুধুই চাকরির পেছনে ছুটতে হবে বা চাকরিই করতে হবে এরকম কোনো কথা নেই। লেখাপড়া শেষ করে নিজের মেধা আর পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে চাইলে অন্যভাবে ও সফল হওয়া যায়। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ শায়েস্তাগঞ্জের সফল একজন উদ্যোক্তা সোহাগ মিয়া।

সোহাগ মিয়া লেখাপড়া শেষ করে প্রায় চার বছর চাকুরির জন্য ঘোরাফেরা করেছেন, অবশেষে চাকরি না পেয়ে নিজের প্রচেষ্টাকে অন্যভাবে কাজে লাগিয়ে হয়েছেন একজন সফল চাষি।
জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে তিনি কৃষি কাজে সময় দিচ্ছেন। নিজের জমিতেই গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন রকম শাক-সবজির বাগান। তার বাগানে উল্লেখযোগ্য সবজি হচ্ছে করলা, টমেটো ও শিম। সোহাগ মিয়া এ বছর ৬০ শতক জমিতে চাষ করেছেন শিম। এবার তার জমিতে শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। সবকিছু ঠিক ঠাক থাকলে এবার শিম বিক্রি আসতে পারে দুই লাখ টাকার।
তার শিম ফলাতে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকার মত। প্রাকৃতিক পরিবেশে সম্পুর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে তিনি চাষ করেছেন শিম। তার জমিতে কোনোরকম কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি, ফলে একদম দেশীয় স্বাদে ক্রেতারা শিম কিনে খেতে পারবেন। সোহাগ মিয়ার জমিতে ৪-৫ জন শ্রমিক কাজ করে। তার কৃষি কাজে তাকে সহায়তা করে আসছেন তার মা ও বোন।
সোহাগের কৃষি ফার্মে কর্মরত শ্রমিক আনজব আলী বলেন, দৈনিক ৪শ টাকা মজুরিতে কাজ করেন এখানে। এই টাকা দিয়েই সংসার চালান তিনি। সৌদি আরব ১৮ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে আসেন একই গ্রামের ফরিদ মিয়া।

দেশে এসে কি করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। মোরগের ফার্ম দিয়ে লোকসান হল অনেক টাকা। সোহাগের বিভিন্ন সবজির চাষ দেখে উৎসাহ পেলেন। নিজেও করলেন বিভিন্ন রকম সবজির চাষ। এতে করে এখন ফরিদ মিয়াও ভালো টাকা আয় করছেন।

সোহাগ মিয়া বলেন একাউন্টিং এ এমবিএ শেষ করে চার বছর চাকরির পিছনে ছুটেছি। কিন্তু চাকরি জুটলোনা ভাগ্যে। পরে পারিবারিক জমিতে টমেটো, করলা ও শিমের চাষ শুরু করি। সম্পূর্ণ অর্গানিক প্রদ্ধতিতে সবজির চাষ করি। যে কারণে উৎপাদন খরচ অনেক কম হয়। আর বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পারি। টমেটো আর করলা চাষ করার পরে এবার শিমের চাষ করেছি। শিম চাষে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা মতো। আল্লাহর রহমতে বাম্পার ফলন হয়েছে। আশা করছি ২ লাখ টাকার শিমের বিচি বিক্রি করতে পারবো। ৪ বছর চাকরির পিছনে না ঘুরে কৃষি কাজ করলে এতোদিনে অনেক টাকা আয় করতে পারতাম।

আমাকে দেখে গ্রামে অনেকেই এখন বিভিন্ন রকমের সবজি চাষ শুরু করেছেন। একই সাথে আমার ফার্মে কাজ করে ৪ থেকে ৫টি পরিবারের কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সহযোগীতা পেলে তিনি আরও জমিতে নানান ধরনের সবজি চাষের উদ্যোগ নিবেন।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানায়, উচ্চ শিক্ষিত সোহাগ এখন অনেকেরই অনুপ্রেরণা। চাকরি পেতে ব্যর্থ হলেও তিনি কৃষিতে সফল। তার মতো শিক্ষিত বেকার যুবকরা যদি কৃষি কাজে এগিয়ে আসেন তাহলে দেশে কৃষিতে বিপ্লব হবে।

Facebook Comments Box