ছুলাছা (মঙ্গলবার), ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

কুখ্যাত সমাজতন্ত্রের আদলে পবিত্র কুরআন শরীফ লিখবে চীন!

কুখ্যাত সমাজতন্ত্রের আদলে পবিত্র কুরআন শরীফ লিখবে চীন!

নিউজ ডেস্ক: বছরের পর বছর ধরে ইসলামবিদ্বেষী চীন সরকারের নানা প্রকার নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে উইঘুর মুসলমানরাসহ অন্যান্য গোত্রের চীনা মুসলমানরা। রোজাতে নিষেধাজ্ঞা, দাড়ি রাখলে জেল-জরিমানা, হিজাবে নিষেধাজ্ঞা অতীতে ঘটে থাকলেও বর্তমানে লাখ লাখ উইঘুর মুসলমানকে ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি করে তাদের উপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে কট্টর মুসলিমবিদ্বেষী চীন সরকার।

এবার সেইসকল কুখ্যাত কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতায় পবিত্র কুরআন শরীফ সমাজতন্ত্রের আদলে লেখার পরিকল্পনা করছে ইসলামবিদ্বেষী চীন সরকার। দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের আদলে পবিত্র কুরআন শরীফ পুনর্লিখনের বিষয়ে গত নভেম্বরে দলটির জাতিতত্ত্ব বিষয়ক কমিটির এক সভায় এ পরিকল্পনা করা হয়।

তবে চীন সরকারের এই কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মুসলিম বিশ্ব। বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা মাঠপর্যায়ে ও সোস্যাল মিডিয়া এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে যাচ্ছেন। মুসলমানদের দাবী, চীন সরকারের এই ইসলামবিদ্বেষী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সকল মুসলিম দেশের উচিত চীনের প্রতি ব্যবসায়ীক ও কুটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষুন্ন করে একঘরে করে দেয়া।

বুধবার তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পবিত্র কুরআন শরীফের কথা সরাসরি না করলেও চীনের ওই কমিটি পরোক্ষভাবে পবিত্র কুরআন শরীফকেই ইঙ্গিত করেছে।

পবিত্র কুরআনুল কারীমে যেসব উপাদান কুখ্যাত সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেসবে পরিবর্তন আনা হবে। এতে সমাজতন্ত্রের সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক তথ্য থাকবে না। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শাসনামলের সঙ্গে এসব ধর্মগ্রন্থকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা দরকার বলে জানিয়েছে ওই কমিটি। পুনর্লিখিত সংস্করণে সমাজতন্ত্রের ভাবাদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ধরনের উপাদান থাকলে সেসব সেন্সর বোর্ড সংশোধন করবে।

চীনের সরকারি সংবাদসংস্থা সিনহুয়া’র প্রতিবেদনে বলা হয়, গত নভেম্বরের ওই বৈঠকে বিশেষজ্ঞ এবং কমিটির প্রতিনিধিদের বলা হয়েছে, সমাজতন্ত্রের মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গে মিল রেখে তাদের বিশ্বাসকে ব্যাখ্যা করার জন্য ধর্মগ্রন্থের পুনর্লিখিত সংস্করণে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আদেশ অনুসরণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, চীনের বিরুদ্ধে বিপুল উইঘুর মুসলিমদের বন্দি শিবিরে আটকে রেখে যখন মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নিপীড়নের অভিযোগে বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও দেশ সমালোচনা করছে, তখন পবিত্র কুরআন শরীফ পুনর্লিখনের এই পরিকল্পনার তথ্য এলো। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্যমতে, জিনজিয়াং প্রদেশে চীন ১০ লাখের বেশি উইঘুর মুসলিমকে আটকে রেখেছে।

Facebook Comments Box