ছুলাছা (মঙ্গলবার), ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ঐতিহ্যবাহী নয় গম্বুজ মসজিদ

ঐতিহ্যবাহী নয় গম্বুজ মসজিদ

বাগেরহাট সংবাদদাতা: বাংলাদেশের প্রাচীন জনপথগুলোর মধ্যে বাগেরহাট অন্যতম। ভৌগলিক অবস্থান, প্রকৃতি ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার কারণে বাগেরহাট শহরের জনপ্রিয়তায় অনেক। প্রাচীন আমলেও বাগেরহাটে জনবসতির প্রমাণ পাওয়া যায়। ব্রিটিশ শাসন আমলে ১৮৪২ সালে খুলনা মহাকুমার অন্তর্গত একটি থানা এবং ১৮৬৩ সালে যশোর জেলা অন্তর্গত একটি মহাকুমা ছিল বাগেরহাট। দেশ স্বাধীন হওয়ার ১৩ বছর পর ১৯৮৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে বাগেরহাটের যাত্রা শুরু হয়।

খানজাহান আমলে নির্মিত ইসলামী স্থাপত্য-রীতির মসজিদগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ইউনেস্কো ১৯৮৫ সালে বাগেরহাটকে ঐতিহাসিক মসজিদের শহর হিসেবে ঘোষণা করে এবং ৩২১তম বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে। বাগেরহাটের মসজিদগুলোর মধ্যে নয়গম্বুজ মসজিদ অন্যতম।

১৫ শতাব্দীতে নির্মিত এই মসজিদটি বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলায় অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের একটি প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপনা। নয়গম্বুজ মসজিদটি ঠাকুর দিঘী বা খাঞ্জেলী দিঘী নামে পরিচিত একটি দিঘীর পশ্চিম দিকে অবস্থিত। এই মসজিদটির কাছেই হযরত খান জাহান আলী রহমাতুল্লাহি আলাইহির মাজার শরীফ রয়েছে।

১৬.৪৫ মিঃঢ১৬.১৫মিঃ ভূমি পরিকল্পনায় নির্মিত মসজিদের দেয়াল ২.৫৯মিটার পুরু। মসজিদের অভ্যন্তরে দুই সারি পাথরের পিলার দিয়ে মোট নয়টি চারকোনা খন্ডে বিভক্ত করা হয়েছে। এই নয়টি খন্ডের উপর মসজিদের নয়টি গম্বুজ অবস্থিত। ছাদের উপর তিন সারিতে নয়টি গম্বুজ অবস্থিত। গম্বুজগুলো পরস্পর থেকে সমান দূরত্বে অবস্থিত। পশ্চিম দেয়ালে নির্দিষ্ট দূরত্বে তিনটি মেহরাব রয়েছে। মসজিদের ভেতরে এবং বাইরে ইটের নকশা ও পোড়ামাটির কারুকাজ রয়েছে। মসজিদে প্রবেশের জন্য সামনের অংশে একটি প্রধান ও সমদূরত্বে দুটি পার্শ্ব দরজা আছে।

Facebook Comments Box