ইয়াওমুস সাবত (শনিবার), ১৭ এপ্রিল ২০২১

এর আগে এতো দামে বিক্রি হয়নি পাট

এর আগে এতো দামে বিক্রি হয়নি পাট

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাট ওঠার শুরুর দিকে ১৬০০ থেকে ১৮০০ বা দুই হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এমন দাম এই প্রথম, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। পাটের বেশি দাম পাওয়ায় খুশি কৃষক ও ব্যবসায়ীরাও।

রাজশাহীর পাট ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান জানান, গত বছর এক মণ পাট বিক্রি হয়েছে ১৪শ’ থেকে ১৫শ’ টাকায়। পরের দিকে দাম বাড়ে কিছুটা। এবার পাট উঠার শুরুর দিকে ১৬শ’ থেকে ১৮শ’ বা দুই হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। পরের দিকে প্রতি সপ্তায় দুই-তিনশ’ টাকা করে বেড়েছে প্রতি মণে। এভাবে বাড়তে বাড়তে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে এখনও বলা যাচ্ছে না, পাটের দাম আরও বাড়বে কিনা। কারণ বিশ্ব বাজারে সুতার দাম বেড়েছে, তাই পাটের দাম বাড়তে পারে বলে বড় বড় আড়তদাররা জানাচ্ছেন।’

রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি গ্রামের পাটচাষি ইমরান আলী জানান, সাত বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছিলাম। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছিল। দাম পাবো না বলে প্রথমের দিকে পাট বিক্রি করেছিলাম। তবে সেই তুলনায় এখন ডাবল পাটের দাম। ভাবতে পারিনি পাটের এতো দাম হবে এবার।’

রাজশাহী রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর সহকারী পরিচালক কাজী সাইদুর রহমান জানান, দেশ থেকে প্রতিবছরই পাট রফতানি বেড়েছে। এ কারণে পাটের দামও বাড়ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার ৫৮৫.৭৪ ডলার, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এক কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৭৯.৫৫ ডলার এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে দুই কোটি ৩৪ লাখ সাত হাজার ৫২৮.১৫ ডলারের পাট রফতানি হয়েছে রাজশাহী থেকে। পাটের দাম বাড়ার পেছনে এটিও একটি কারণ বলে মনে করছেন এই কর্মকর্তা।

কৃষিবিদ শামসুল হক আরও বলেন, পাটের দাম ভালো থাকায় কয়েক বছর থেকে পাটের আবাদ বেড়েছে। সরকারি পাটকল বন্ধ। তবুও পাট বিক্রিতে কৃষকের সমস্যা হবে না। কারণ বেসরকারি পাট কলগুলো রয়েছে। এছাড়া বিদেশে পলিথিন ও প্লাস্টিক জাতীয় জিনিস থেকে মানুষ ফিরে আসছে। তাদের মধ্যে পাটের তৈরি ব্যাগের চাহিদা বেশি। পাট চাষে কৃষকের সুদিন ফিরেছে।’

Facebook Comments