খামিছ (বৃহস্পতিবার), ৩০ মে ২০২৪

উল্টো রথযাত্রায় অচল ঢাকা

আরএফএন ডেস্কঃ রাজধানী ঢাকায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকালে বিশাল শোভাযাত্রা বের করে।

স্বামীবাগের ইসকন মন্দিরে অনুষ্ঠিত শোভাযাত্রা পূর্ব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। শ্রীপাদ চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে এত অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ইসকন বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি কৃষ্ণ কীর্তন দাস ব্রহ্মচারী, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের সেবায়েত প্রদীপ ভট্টাচার্য, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা।

কামরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ থেকে চিরতরে সাম্প্রদায়িক শক্তি নির্মূল করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির মূর্তপ্রতীক হিসাবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, তাঁর কাছে কোন সাম্প্রদায়িক শক্তির স্থান হবে না। দেশ থেকে চিরতরে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা হবে বলে জানান তিনি।

উল্টো রথযাত্রা শেষে আশ্রমে ভক্তবৃন্দের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয় নানা আনুষ্ঠানিকতা।

এদিকে গতকালের উল্টো রথযাত্রার কারণে রাজধানীজুড়েই ছিল তীব্র যানজট। এতে জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। দুপুরের পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীসহ অফিস আদালতগামী মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েছে যানজটের কবলে। বিশেষ করে বিকালে ঘরে ফেরা মানুষেরা যানজটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়ে। যানজটের কারণে সময়মত পাওয়া যায়নি গাড়ি। মাঝে মধ্যে দু’য়েকটি পাওয়া গেলেও দিতে হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। মাত্র দেড়-দুই কিলোমিটার পথ যেতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।

দুপুর পৌনে ১টা। মতিঝিলের বেসরকারি একটি অফিসের কর্মকর্তা আনিসুর রহমান ও আমজাদ হোসেন অফিসের কাজে রাজধানীর বনানীতে যেতে হয়েছিল। সেখান থেকে কাজ শেষে আবার মতিঝিলে ফিরে আসেন। প্রায় ঘণ্টাখানেকেরও বেশি সময় অপেক্ষা করে তারা বাস পেলেন না। উপায় না দেখে হেঁটেই রওনা দিলেন। হাঁটতে হাঁটতে মহাখালীতে পৌঁছলেন। পরে মহাখালী থেকে বাসে উঠলেন দু’জনেই। কিন্তু বাস কচ্ছপ গতিতে চলছে, দু’এক মিনিট যাওয়ার পর আবার থমকে দাঁড়ায়। মহাখালী থেকে বিজয় সরণি পার হতে প্রায় সোয়া ঘণ্টা সময় পেরিয়ে গেল। রাস্তার দুই পাশে থমকে আছে শত শত বাস-প্রাইভেটকার। যেদিকে চোখ যায়, শুধু গাড়ি আর গাড়ি। এরপর রাগে-ক্ষোভে বিরক্ত হয়ে নেমে যান দু’জনেই। আবার হাঁটা শুরু। হেঁটে ফার্মগেট পর্যন্ত গেলেন দু’জন।

বিকালে টেলিফোনে কথা হয় আরও একজন পথচারী শহিদুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, যানজটির কথা ভেবে হেঁটেই মতিঝিল অফিস থেকে বাসায় যাই। ফার্মগেট হয়ে কারওয়ান বাজার, এফডিসি, মগবাজার, মিন্টু রোড হয়ে সোজা তেজতুরীপাড়া পৌঁছতে আমার সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো। কিন্তু তার সহকর্মী শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তিনি মতিঝিল থেকে বাসে যান। দীর্ঘ যানজট ঠেলে শহিদুলের চেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পরে বাসায় পোঁছলেন তার সহকর্মী।

রাজধানীতে যানজটের চিত্র নতুন নয়। মাঝেমধ্যে ট্রাফিক জ্যাম এমন অবস্থায় দাঁড়ায় যে, রাস্তায় দীর্ঘ সময় রোগীবাহী এ্যাম্বুলেন্স করুণ সুরে সাইরেন বাজালেও কিছুই করার থাকে না কারও। আগে এ্যাম্বুলেন্সের শব্দ শুনে মানবিক কারণে জায়গা করে দিতেন পথচারী, বাসের ড্রাইভার বা ট্রাফিক পুলিশ। এখন মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর রোগীর জন্য কারও কারও মায়া হলেও কিছুই করার থাকে না। কারণ যানজটের ধরনটা এখন এমন হয়েছে যে, ইচ্ছা করলে ওই এ্যাম্বুলেন্সটিকে বের করে দেয়ার সুযোগ থাকে না। যানজট নামক এই মহাঅশান্তিতে পড়ে তাই অনেকের মুখে শোনা যায় ‘এই নগর বসবাসের অনুপযোগী। এখানে আর থাকা যায় না।’

প্রায় দুই কোটি মানুষের নগরী এই ঢাকাতে যানজট প্রতিদিনের চিরচেনা ঘটনা। যানজট নিরসনে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে অতীতে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকছেন মানুষ। ভোগান্তির যেন শেষ নেই। হাঁফিয়ে উঠছে নগারবাসী। নারী, শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তিই সবচেয়ে বেশি। নির্ধারিত সময়ে অফিসে পৌঁছতে পারছেন না কর্মজীবীরা। শিক্ষার্থীরা হিমশিম খাচ্ছেন ক্লাসে পৌঁছতে। মানুষের এ দুর্ভোগ যেন সমাধানের নয়।

Facebook Comments Box