ইসনাইন (সোমবার), ০৪ জুলাই ২০২২

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কালো তালিকায় সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নরোধে শিথিলতার মাধ্যমে ঝুঁকি তৈরি করায় সৌদি আরব, পানামা, নাইজেরিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ইউরোপিয়ান কমিশন।

বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক নির্বাহী এ তথা জানিয়েছেন বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।ইউরোপের ব্যাংকগুলোতে ঘটা বিভিন্ন কেলেঙ্কারির পর মুদ্রাপাচারবিরোধী কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে ইইউ-র বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র ।

কালো তালিকাভুক্ত দেশ বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকায় যুক্তরাজ্য ইউরোপিয়ান কমিশনের এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে।

প্রস্তাবিত এ তালিকাকে স্বীকৃতি দিতে জোটভুক্ত ২৮টি দেশ সর্বোচ্চ দুই মাস সময় পাবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে চাইলে তারা তালিকাটিকে প্রত্যাখ্যানও করতে পারে, জানিয়েছে রয়টার্স।

ইইউ-র বিচার বিষয়ক কমিশনার ভেরা জোরুভা নতুন এ তালিকাটি প্রস্তাব করেছেন। সদস্য দেশগুলো একে খারিজ করবে না বলেও আত্মবিশ্বাসী তিনি।“ব্যাংকিং সেক্টরে ঝুঁকি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ায় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে,” বলেছেন তিনি।

ইইউর এ সংক্রান্ত আগের কালো তালিকায় ১৬টি দেশ ছিল। নতুন তালিকাটিতে দেশের সংখ্যা ২৩টি।সৌদি আরব, পানামা, নাইজেরিয়া ছাড়াও নতুন যুক্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে আছে লিবিয়া, বতসোয়ানা, ঘানা, সামোয়া, বাহামা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা চার রাজ্য- আমেরিকান সামোয়া, ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডস, পুয়ের্তো রিকো ও গুয়াম।

কালো তালিকায় থাকার ফলে দেশগুলোর কেবল সম্মানহানিই হবে না, তাদের সঙ্গে ইইউয়ের আর্থিক সম্পর্কও আগের তুলনায় জটিল হয়ে উঠবে। ইইউর ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে তালিকায় থাকা দেশগুলোর সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে বাড়তি যাচাই-বাছাই করতে হবে, থাকতে হবে অতিরিক্ত সতর্ক।

আফগানিস্তান, উত্তর কোরিয়া, ইথিওপিয়া, ইরান, ইরাক, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, সিরিয়া, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, তিউনিসিয়া ও ইয়েমেনের নাম ইইউর এ নতুন তালিকায়ও আছে।আগের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে কেবল বসনিয়া, গায়ানা, লাওস, উগান্ডা ও ভানুয়াতু।

তালিকায় নাম না থাকলেও কমিশন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের ওপর কড়া নজর রাখছে বলেও জানিয়েছেন জোরুভা।ইউরোপিয়ান কমিশনের নতুন এ সিদ্ধান্তে ‘মনঃক্ষুণ্ন’ হওয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি সরকার। নিজেদের নাম তালিকার বাইরে রাখতে রিয়াদ প্রবল চাপ দিয়ে গেলেও ইইউ কমিশন তাদেরকে রাখতে বদ্ধপরিকর ছিল বলে জানুয়ারিতেই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল রয়টার্স।

“মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি সৌদি আরবের কৌশলগত অগ্রাধিকার,” রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএতে দেওয়া বিবৃতিতে এমনটিই জানিয়েছে সৌদি সরকার।মুদ্রা পাচার রোধে সম্প্রতি কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে দাবি করে পানামাও তাদের নাম কাল তালিকা থেকে সরিয়ে নিতে বলেছে।

Facebook Comments Box