ইয়াওমুল ইসনাইন (সোমবার), ১৮ অক্টোবর ২০২১

আগাম আলুচাষে ব্যস্ত নীলফামারীর চাষিরা

আগাম আলুচাষে ব্যস্ত নীলফামারীর চাষিরা

নীলফামারী সংবাদাদাতা: মাঠের পর মাঠ লাগানো হচ্ছে আগাম জাতের আলু। আউশ ধান কাটা মাড়াই শেষে এখন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আগাম আলুচাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অন্য বছরের চেয়ে এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান কেটে মাঠের পর মাঠ সেভেন জাতের আলুসহ, সাকিতা, কারেজ ও জামপ্লাস আলু রোপণ করছেন এখানকার কৃষকরা। ফলে কদর বেড়েছে কৃষি শ্রমিকদের। বাড়তি মজুরি দিয়েও এখানে শ্রমিক মিলছে না। ১৯৯০ সালে উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের এক কৃষক বাড়ির পাশের জমিতে খাওয়ার জন্য আগাম আলুর চাষাবাদ শুরু করেন। ভাল ফলন পাওয়ায় সেখান থেকে এই অঞ্চলের কিশোরগঞ্জ উপজেলাসহ আশেপাশের এলাকায় আগাম আলু চাষাবাদ করা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছর ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জতিতে আগাম আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বল্পমেয়াদী আগাম আউশ ও আমন ধান কাটা, মাড়াই শেষ করে সেই জমিতে আগাম জাতের আলুর বীজ বপনের কাজ চলছে। আলু রোপণকে ঘিরে কৃষকদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায় মাঠজুড়ে।

উপজেলার উত্তর দুরাকুটি গ্রামে দেখা যায়, ওই গ্রামের শামীম হোসেন বাবু এবার ২৫ বিঘা জমিতে আলুর বীজ রোপণ করছে। এই কৃষক জানান, মঙ্গা তাড়ানো স্বল্প সময়ে আউশ ও আগাম আমন ধান কাটাই মাড়াই শেষে এখন আলুর বীজ রোপণ করছেন। এই আলু ৫৫ দিনেই উঠবে। গত বছর তিনি ২১ বিঘা জমিতে আগাম আলু চাষ করেন। এই আলু উৎপাদনে তার খরচ হয়েছিল তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা। আলু বিক্রি করেন ১২ লাখ ৯০ হাজার টাকার। এতে তার খরচ বাদে লাভ হয় ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

উপজেলার রণচন্ডী ইউনিয়নের দীঘলটারী গ্রামের আলুচাষি আকবর আলী ও রতন আলী জানান, গত বছর আগাম ধান কাটার পর ৬ বিঘা জমির আলু উত্তোলন করে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে খরচ বাদে ৩ গুণ টাকা লাভ করেছেন। এবার তারা জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করে ১২ বিঘা জমিতে আগাম আলুর বীজ রোপণ করছেন। বাহাগিলী গ্রামে আলুচাষি রফিকুল ইসলাম ১৫ বিঘা, সাবিনা বেগম ১০ বিঘা এবং মিলন মিয়া ১৮ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপণ করছেন।

উপজেলার গদা কোরানীপাড়া গ্রামের কৃষক রেজাউল হক ফিলিপ জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে আগাম আলুর চাষ করেছেন। বর্তমানে তার লাগানো আলুর বয়স ১৫ দিন। আলুর মোড়ক ও রাজনৈতিক সংকট না থাকলে তিনি তার চাষকৃত আলু থেকে ৫০-৭০ হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, এলাকার জমিগুলোতে একসময় কাঁশবন চাষ করা হতো। কিন্ত আগাম আলু আবাদে পাল্টে গেছে জীবনযাত্রা।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, এ উপজেলার মাটি আগাম আলু চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আমরা উপজেলায় এবার ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরলেও এর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৭ হাজার হেক্টরে যেতে পারে।

তিনি আরও জানান, এই উপজেলায় চলতি বছরে আউশ ধান ২ হাজার হেক্টরে ও মঙ্গা তাড়ানো স্বল্প সময়ের হাইব্রিড ধান এক হাজার ২০০ হেক্টরে উৎপাদন হয়েছে। সেই জমিতেই কৃষক এখন আগাম আলুচাষ করছে। আমাদের কৃষি অফিস থেকে আগাম আলুচাষে কৃষকদের বিভিন্ন সহযোগিতায় মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকরে পাশে থেকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রায় ১২ বছর আগেও বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় আশ্বিন-কার্তিক অভাবের মাস নামে পরিচিত ছিল। সেদিন এখন আর নেই। গ্রামের কৃষকই বলছেন ফসলের বহুমূখীকরণ ও আগাম ফসল উৎপাদনে শেখ হাসিনা সরকারের কৃষি বিপ্লব কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আবু বকর ছিদ্দিক জানান, অল্প সময়ে দ্বিগুন লাভবান হওয়ার আশায় কৃষকরা আলু চাষাবাদ করে। সময়মতো ওষুধ প্রয়োগ করতে না পারলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কৃষকরা। তাই কৃষকদের আগাম আলু চাষাবাদে উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে করে এ এলাকার কৃষকরা আলু উৎপাদন করে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলাসহ বিদেশে রপ্তানি করতে কৃষকরা আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

Facebook Comments Box